আওয়ামী লীগকে জুলুমবাজ দল অ্যাখ্যা দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা জাতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। দেশের মানুষ ছিল তাদের কাছে অসহায়। তারা বিচারের নামে প্রহসন করে আমাদের ১১ জন নেতাসহ শত শত কর্মীকে হত্যা করেছে। এখন তাদের ভোট চাওয়ার অধিকার নেই। যারা ১৮ কোটি মানুষের উপর গুলি করেছেন,তাদের আগে বিচার করতে হবে। তারপর দেখা যাবে তাদের কি হবে।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বগুড়া শহর ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার স্বেরাচারী কায়দায় দেশ শাসন করেছে। আমাদের বহু নেতাকে হত্যা করেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ নিবো না। জামায়াত প্রতিশোধের রাজনীতি করে না। কিন্তু যারা খুন, গুম, হামলা, সন্ত্রাস আর দুর্নীতি করে টাকা লুট করেছে তাদের বিচার করতেই হবে। তাদের কোনো ছাড় নেই।
শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জাতিকে বিভক্ত করতে চাই না। জাতি যখন বিভক্ত হয়ে পড়ে তখন ষড়যন্ত্রকারীদের সুবিধা হয়। আমরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চাই। জাতির স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর বহু আগাছা-পরগাছা মাথা চাঁড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এদেরকে প্রতিহত করতে হবে।
ছাত্র-জনতার জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের কৃতিত্ব যুবসমাজের বলে মনে করেন জামায়াতের আমীর। আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, চব্বিশের আন্দোলনের শেষের দিনগুলো মোটেও সহজ ছিলোনা। আন্দোলনকারীদের জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তারা এক সঙ্গে বসে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলোনা। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা লড়াই করে জাতিকে মুক্তি এনে দিয়েছে। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে, হাজার হাজার আহতদের আর্তনাদের বিনিময়ে বিজয় এসেছে। সব শহীদ এবং আহতদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী সাধ্যমত সকল শহীদ এবং আহতদের পাশে থাকবে।
Leave a Reply